চাহিদা ও দাম কম থাকায় ভিয়েতনামের কফি বাজারে স্থবিরতা

ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত সপ্তাহে কফির বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

স্থানীয় বাজারে কফি বিনের মূল্য হ্রাস ও চাহিদার মন্দা ভাবই এর মূল কারণ বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় কফি চাষের অনুকূল আবহাওয়া থাকায় সেখানকার বাজার বেশ চাঙ্গা রয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভিয়েতনামের প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের কৃষকরা বেশ কম দামে কফি বিক্রি করছেন। বাজারে প্রতি কেজি কফি বিনের দাম কমে ৩ ডলার ২২ থেকে ৩ ডলার ২৪ সেন্টে নেমে এসেছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৩ ডলার ২৪ থেকে ৩ ডলার ২৭ সেন্ট। দেশটিতে সার ও কীটনাশকের মতো প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। তাই কয়েকজন কৃষক জরুরি প্রয়োজনে ও খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে কম দামেই মজুদ করা কফি বিক্রি করছেন। ফলে প্রধান বাজারগুলোয় বেচাকেনা এখন অনেকটাই স্থবির।

স্থানীয় বাজারে মন্দা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কফির দামে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত বুধবার বিশ্ববাজারে আগামী সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য রোবাস্তা কফির দাম টনপ্রতি ৬৭ ডলার বেড়ে ৩ হাজার ২৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভিয়েতনামের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাছাড়া ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্রোকেন-গ্রেড ২ রোবাস্তা কফি বর্তমানে আন্তর্জাতিক চুক্তির তুলনায় টনপ্রতি ২০-৩০ ডলার ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলের মতো শীর্ষ দেশগুলো থেকে বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়ায় ভিয়েতনামের বাজারে কফির দাম স্থবির হয়ে যেতে পারে। বিপরীতে, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা রোবাস্তা কফি এবার টনপ্রতি ১৫০ ডলার প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ ডলার। ল্যাম্পুং অঞ্চলের চাষীরা জানিয়েছেন, বর্তমানের অনুকূল আবহাওয়া ও তাপমাত্রা কফির ভালো ফলনে দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

নিকট ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের বাজারে কফির দাম পুনরায় বাড়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আরও